একটি দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করতে ব্যবসায়িক খাতে কর (Business Tax) অন্যতম প্রধান উপাদান। সরকার পরিচালনার খরচ, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় ইত্যাদির জন্য মূলত কর থেকেই অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ব্যবসায়িক আয়কর একটি প্রতিষ্ঠানের আয় অনুযায়ী ধার্য করা হয় এবং এটি ব্যক্তিগত আয়করের চেয়ে অধিক নিয়ম-কানুন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এই কর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।১. ব্যবসায়িক আয়করের সংজ্ঞা:
ব্যবসায়িক আয়কর বলতে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির মোট আয়ের উপর নির্ধারিত হারে প্রদেয় করকে বোঝায়। এই আয় বিভিন্ন উৎস থেকে অর্জিত হতে পারে, যেমন: পণ্য বিক্রি, সেবা প্রদান, লভ্যাংশ, মূলধন লাভ, ইত্যাদি।
বাংলাদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকারভেদ অনুযায়ী করের ধরন ও হার ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত ৩ ধরণের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে:
সোল প্রোপ্রাইটরশিপ (স্বত্বাধিকারী): ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসা
পার্টনারশিপ (অংশীদারিত্ব): দুই বা ততোধিক অংশীদারের যৌথ ব্যবসা
কোম্পানি: কোম্পানি আইন অনুযায়ী নিবন্ধিত সীমিত কোম্পানি
ব্যবসার ধরণ | করহার |
|---|---|
| পাবলিক/প্রাইভেট কোম্পানি | ২২.৫%-৩০% |
| ব্যাংক/বীমা/NBFI | ৪০%-৪৫% |
| একমাত্র মালিকানা | ব্যক্তিগত আয়কর হারে |
| পার্টনারশিপ ব্যবসা | ব্যক্তিগত হারে অথবা যৌথ |
ব্যবসায়িক করযোগ্য আয় হিসাব করার সময় নিচের বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হয়:
মোট বিক্রয় আয়
পরিচালন ব্যয়
আমদানিকৃত কাঁচামালের খরচ
বেতন, ভাড়া, ইউটিলিটি খরচ
নির্ধারিত হারে অবচয় (Depreciation)
করযোগ্য আয় = মোট আয় – অনুমোদিত ব্যয়
বাংলাদেশে ব্যবসায়িক করবর্ষ জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত হয়ে থাকে। রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ সময় সাধারণত ৩০ সেপ্টেম্বর, যদিও নির্দিষ্ট কারণে সময়সীমা বাড়ানো হয়।
ট্রেড লাইসেন্স
ব্যাংক স্টেটমেন্ট
বিক্রয়/ক্রয়ের হিসাব
ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন
TIN সনদ
অডিট রিপোর্ট (কোম্পানির ক্ষেত্রে)
প্রতিটি কোম্পানিকে নিয়মিত অডিট করতে হয় এবং অডিটেড ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্টসহ কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। NBR নির্ধারিত ফর্মে এ রিটার্ন দাখিল করা হয়।
বাংলাদেশে অনেক ক্ষেত্রেই উৎসে কর কেটে রাখা বাধ্যতামূলক, যেমন:
ঠিকাদারি/সাপ্লাই পেমেন্ট
বাড়ি ভাড়া
বিজ্ঞাপন ব্যয়
কনসালট্যান্সি সেবা
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে উৎসে কর কেটে যথাযথ সময়ে সরকারকে জমা দিতে হয়।
কর ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) এবং সম্পূরক শুল্ক (SD) ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রেই ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক এবং এটি নিয়মিতভাবে দাখিল করতে হয়।
সরকার নির্দিষ্ট খাতে কর রেয়াতের সুবিধা দিয়ে থাকে, যেমন:
রপ্তানিমুখী শিল্পে কর রেয়াত
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর অব্যাহতি
নবীন উদ্যোক্তাদের কর হ্রাস সুবিধা
পরিবেশবান্ধব পণ্যে করছাড়
যদি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করে বা সঠিক হিসাব না দেয়, তবে কর অফিস নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আয় নির্ধারণ করতে পারে। একে বলে “Best Judgment Assessment”।
কর ফাঁকি বা তথ্য গোপনের জন্য NBR নিচের পদক্ষেপ নিতে পারে:
অতিরিক্ত জরিমানা
কর মামলা
ব্যাংক হিসাব জব্দ
লাইসেন্স বাতিল
বর্তমানে অনলাইন ব্যবসা যেমন ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং ইত্যাদিও আয়কর আওতায় এসেছে। এসব ব্যবসার আয় নির্ধারিত হারে করযোগ্য।
অনেক উদ্যোক্তা কর বিষয়ে অনভিজ্ঞ হওয়ায় ভুল করে বসেন। এজন্য কর কনসালট্যান্ট ও অ্যাকাউন্ট্যান্টের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
BD Tax Law Associate একটি পেশাদার ট্যাক্স, ভ্যাট ও কোম্পানি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান, যারা নিচের সেবা দিয়ে থাকে:
ব্যবসায়িক কর নির্ধারণ ও রিটার্ন প্রস্তুতি
TIN ও VAT রেজিস্ট্রেশন
বার্ষিক অডিট রিপোর্ট তৈরি
কোম্পানি ইনকর্পোরেশন ও লাইসেন্সিং
উৎসে কর ফাইলিং ও ট্যাক্স সনদ
আপিল/বিরোধ নিষ্পত্তি
BD Tax Law Associate ব্যবসার আইনগত কাঠামো ও কর ব্যবস্থার নিয়ম মেনে উদ্যোক্তাদের সঠিক কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করে থাকে।
ব্যবসায়িক আয়কর একটি জটিল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়মিত কর প্রদান ও কর আইন মান্য করে ব্যবসায়িক সচ্ছতা ও স্থায়িত্ব অর্জন সম্ভব। একটি ব্যবসা শুধু মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। সঠিকভাবে কর প্রদান করলেই ব্যবসা দীর্ঘস্থায়ী, সুরক্ষিত ও আইনগতভাবে সুনিশ্চিত হয়।
BD Tax Law Associate-এর মত পেশাদার প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নিয়ে ব্যবসায়িক কর ব্যবস্থা পরিচালনা করা হলে উদ্যোক্তারা ঝামেলামুক্ত ও দক্ষভাবে করসম্পর্কিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, যা ব্যবসা সম্প্রসারণেও সহায়ক।
Copyright ©2023 www.bdtaxlaw.org All rights reserved.
Automated page speed optimizations for fast site performance